কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি:কাহালু উপজেলায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কথিত ভূমিদস্যু চক্র। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি মহল ফসলি জমিতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পুনরায় পুকুর খনন (ক্ষরণ) করছে। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি, অন্যদিকে ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ চলাচলের রাস্তা—চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাতের আঁধারে বা গোপনে এক্সকাভেটর দিয়ে জমি কেটে গভীর পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। এতে পাশের কৃষিজমির মাটি সরে গিয়ে জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুকুর খননের মাটি ফেলে সরু গ্রামীণ সড়ক ভরাট বা কেটে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীবাহী যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, তাদের সম্মতি ছাড়াই আশপাশের জমিতে পুকুর খনন করায় জমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, কৃষিজমি সুরক্ষা আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া ফসলি জমিতে পুকুর খনন দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় ভূমিদস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ এবং আবাদি জমি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।