জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃবাড়ির আশপাশে বা অফিসের আঙিনায় পড়ে থাকা অব্যবহৃত জমি ফেলে না রেখে পরিকল্পিতভাবে শাক-সবজি চাষের এক সফল উদ্যোগ নিয়েছেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম। তার এই উদ্যোগের ফলে উপজেলার ভেতরের এক সময়ের পরিত্যক্ত জমি এখন টাটকা সবজির এক খামারে পরিণত হয়েছে।
এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের সূচনা করেন দিঘলিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম। আর উদ্যোগটিকে আরও সম্প্রসারিত ও কার্যকর করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ।
২০২৪ সালে উপজেলা চত্বরের প্রায় ২৪ শতাংশ পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেন মো: আরিফুল ইসলাম। জমিটি দীর্ঘকাল অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। তিনি উপজেলা পরিষদের মালি মোঃ লিয়াকতের সাথে নিয়ে জমিটি পরিষ্কার করে চাষের উপযোগী করে তোলেন।
বর্তমানে ওই জমিতে শসা, লাল শাক, বিটকপি, ধনিয়া, বেগুন, টমেটো, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, করমির শাক, মুলা, পুইশাক ও কচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির আবাদ করা হয়েছে এবং উপজেলয় পরিষদের রাস্তার দু পাশে বিভিন্ন ফুলের সমারোহে উপজেলায় গাঁদা ফুলের অনেক নামিদামি ফুলের ফুটন্ত কলিতে উপজেলার প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য ফিরে আসে। কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করায় সবজির ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বিষমুক্ত ও টাটকা এসব সবজি একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে জায়গাটির সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করেছে।উপজেলা চত্বরের এই সবজি বাগান দেখতে মাঝেমধ্যেই আশপাশের লোকজন আসছেন। অফিসের আঙিনায় এমন উৎপাদনশীল কাজ দেখে স্থানীয়রা উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকেই নিজ বাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন।
পরিদর্শনে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এই জায়গাটি অবহেলায় পড়ে ছিল। এখন সেখানে সবুজ ফসলের সমারোহ দেখে তারা মুগ্ধ। এটি দেখে তারা নিজেরাও বাড়ির আঙিনায় ছোট পরিসরে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। উপজেলার কর্মচারী মো. লিয়াকত আলীকে জানান, গত বছরও কিছু সবজি চাষে ভালো ফলন পাওয়ার পর ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় এবার বড় পরিসরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কাজে দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।