• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
এমপি মোশারফ হোসেনের উদ্যোগে নন্দীগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৬৫ লাখ টাকার অনুদান ফেক আইডির অপপ্রচারে থামবে না কণ্ঠ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকব রবি কাহালুর ইউএনও মলিহা খানম বয়রাদিঘী খাল পুনঃ খননের পর সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন প্রায় পৌনে ২ লাখ টাকা ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট সফল করতে কাহালু উপজেলা কৃষকদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জুলাই-আগস্ট ছাত্র- জনতার গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।  কুয়েট সংলগ্ন এলাকায় ‘রাতুল একাডেমি’র তৃতীয় শাখার উদ্বোধন সময় থাকতে ভালো হয়ে যান, শালীন রাজনীতি করুন—নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে এস এম রবির কঠোর বার্তা” পাঁচবিবিতে মেয়র পদপ্রার্থী শামীম হোসেন মন্ডলের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত বগুড়া ধুনটে হামলা, মারধর ও ৫৫ হাজার টাকা লুটের মামলায় গ্রেপ্তার এক প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে, অর্থ আত্মসাৎ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ  

কুড়িগ্রাম জেলায় হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জন জীবন বিপর্য নামমাত্র কম্বল বিতরণ

Reporter Name / ১৫৪ Time View
Update : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে শীত এখন মৌসুমি দুর্ভোগ নয়, বরং এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

রোববার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সঙ্গে বাতাসে ৯৯ শতাংশ আর্দ্রতা থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

তীব্র শীতে কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুর, নৌকার মাঝি, কৃষিশ্রমিক ও ভ্যানচালকরা। ফলে আয় বন্ধ হয়ে গিয়ে বহু পরিবার পড়েছে অনাহারের ঝুঁকিতে।

উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া জানান, ৪৬ দশমিক ৯৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি চরে ৩২ হাজার মানুষের বসবাস। মশালের চর, মাঝেরচর, ফকিরেরচর, মোল্লারহাট, খুদিরকুটি সহ পুরো ইউনিয়নই নদীবেষ্টিত হওয়ায় হিমেল বাতাস ও প্রচণ্ড শীতে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সীমাহীন কষ্টে রয়েছেন।

তিনি বলেন, “প্রতিদিন সকাল হলেই দুই থেকে তিনশ মানুষ আমার বাড়িতে ভিড় করছে কম্বলের আশায়। কিন্তু সরকার থেকে বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ১০০টি কম্বল। ৯টি ওয়ার্ডে এই কম্বল কিভাবে ভাগ করবো, সেটাই বড় চিন্তা। তার ওপর ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে কম্বল আনতে প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়।”

এদিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সমাজকর্মী আব্দুল আখের অভিযোগ করে বলেন, “জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ৬১টি এনজিও কর্মরত থাকলেও এই দুর্যোগকালীন সময়ে শীতার্ত মানুষের পাশে তাদের কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন,

“কুড়িগ্রামে বসবাসরত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ ২৯ হাজার। এর মধ্যে ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ দরিদ্র এবং ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ হতদরিদ্র। হতদরিদ্র মানে—রাতে শুয়ে সকালে কী খাবে, তা জানে না। আবার ৩৭ শতাংশ মানুষ ভূমিহীন।”

তিনি আরও বলেন, “জেলায় কে দরিদ্র, কে হতদরিদ্র, কে ভূমিহীন—এর কোনো নির্ভরযোগ্য তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে নেই। ফলে দুর্যোগকালীন সরকারি-বেসরকারি সহায়তা বিচ্ছিন্নভাবে দেওয়া হয় এবং প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র করা গেলে দরিদ্রদের তালিকা করাও কঠিন কাজ নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ভোটের রাজনীতি ও ভাগাভাগির কারণে সহায়তা চলে যায় নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও কুড়িগ্রামে শীতবস্ত্র সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।”

শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ২২ হাজার কম্বল ৯টি উপজেলার ৭৩টি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে চরাঞ্চলের মানুষের হাতে এখনো শীতবস্ত্র পৌঁছেনি।”

তিনি অভিযোগ করেন,“জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নে ফটোসেশন করে শীতবস্ত্র দিয়েছেন, কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন কালীর আলগা, গোয়াইলপুরী, ভগবতীপুর, ঝুনকার চর, মোল্লারহাট, মাঝেরচর, খুদিরকুটি, সুখেরবাতি, ঘুঘুমারি, মনতলা, শাখাহাতি, বড়বেরসহ ২৬৯টি চরের মানুষ এখনও বঞ্চিত। আমরা ফটোসেশন নয়, প্রকৃত দরিদ্রের হাতে শীতবস্ত্র পৌঁছানোর দাবি জানাই।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান,

“এখন পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলায় ২২ হাজার কম্বল বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে। শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।” তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বিতরণ হলেও দুর্গম চরাঞ্চলে শীতবস্ত্র না পৌঁছানোয় শীতে কাঁপছে হাজারো অসহায় মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd