মোঃ মোরশেদুল ইসলাম রবি বগুড়াঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় রাজনীতিতেও নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে চায়ের দোকান, হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় চলছে জোর আলোচনা।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে কাহালু উপজেলা বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন—এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা সেলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়ে নানা মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম ও চাপ উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন সেলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ কারণে নেতাকর্মীদের কাছে তিনি দুঃসময়ের সাহসী ও নির্ভরযোগ্য সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাবেক কাহালু উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বর্তমান সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বীরকেদার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টানা তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তাকে উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।
কাহালুর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা একজন কর্মীবান্ধব, সহজপ্রাপ্য ও উন্নয়নমুখী চেয়ারম্যান প্রত্যাশা করেন। অনেকের ভাষ্য, সেলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে দল ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে যে আস্থা অর্জন করেছেন, তা তাকে এ মুহূর্তে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের কারণে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও তিনি আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।
এদিকে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, দল যদি তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে মনোনয়ন দৌড়ে সেলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান শক্ত অবস্থানে থাকবেন।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণ করবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তারপরও কাহালু উপজেলা জুড়ে এখন যে আলোচনা চলছে, তাতে স্পষ্ট—উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে তৃণমূলের বড় একটি অংশ সেলিম উদ্দিন চেয়ারম্যানকেই দেখতে চায়।
আসন্ন নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। কাহালু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন—সেদিকেই এখন নজর পুরো উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনের।