বিপ্লব চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টারঃগাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ খালেকুজ্জামান বাবলু। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি ও হেড অব অপারেশন মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রায় সহস্রাধিক অতিথির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, ১৯২৫ সালে স্থানীয় জ্ঞানতাপস বাবু শশী মোহন চক্রবর্তী চুপাইর গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দেবনাথের নেতৃত্বে ১৭ জন সহকারী শিক্ষক ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত ৫৩০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন। বিদ্যালয়টিতে ৭ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এই বিদ্যালয়ে শুধু চুপাইর গ্রাম নয়, পার্শ্ববর্তী কলাপাটুয়া, ছৈলাদী, মেন্দিপুর, বড়ভোলা, বাগদী, রাতকানা, শিংলাব, কাপাইশ, শিবপুর, বেলনা, মাঝুখান, জাংগালিয়া, ফুলদী, বাঘুন, মৈশাইর, কলুন, কৌচান, দক্ষিণবাগ, ভাটিরা ও উত্তর জামালপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শতবর্ষ পূর্ণ করে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় আজ গর্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। এই বিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আবেগ, দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসার প্রতীক। অতীতের ঐতিহ্য, বর্তমানের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন মিলিয়ে এটি একটি জীবন্ত ইতিহাস।
বক্তারা আরও জানান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তায় বিদ্যালয়ের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কল্যাণ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।