জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা:খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ৬৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। সাধারণ এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল—তিন শাখায় ফলাফলে সাফল্যের পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম পাশের হারও দেখা গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার ফাতেমা বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় দিঘলিয়ায় ১ হাজার ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৬২.৬৭ শতাংশ। যশোর শিক্ষা বোর্ডের গড় পাশের হার ৬৬.২৭ শতাংশ।
সাধারণ এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৬৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে একাই ৩৩ জন সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। প্রতিষ্ঠানটির পাশের হারও উপজেলার অন্যতম সর্বোচ্চ—৮৭.৩১ শতাংশ।
এছাড়া সেনহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও পথের বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন করে, হাজী ছায়েমউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন এবং ফাতেমা মেমোরিয়াল ও সুগন্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তিনজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ফলাফলের মধ্যে সেনহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পাশের হার ৮৬.২১ শতাংশ, সুগন্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮৪.৬২ শতাংশ, এপেক্স মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৮২.১৪ শতাংশ এবং হাজী ছায়েমউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৭.৬৩ শতাংশ।
অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাশের হার তুলনামূলক কম। গাজিরহাট হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০.৪০ শতাংশ, নন্দন প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০.৭৭ শতাংশ এবং আড়ুয়া উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠে ৩২ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
দাখিল ও ভোকেশনালে ভালো ফল
দাখিল পরীক্ষায় হাছেনীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৩ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৬৯.৫৭ শতাংশ, যা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের গড় ৫৫.৪৯ শতাংশের চেয়ে বেশি। এ শাখা থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভোকেশনাল শাখায় ১১১ জনের মধ্যে ৮৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৮০.১৮ শতাংশ, যা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের গড় ৫৮.২০ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ শাখা থেকে পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সার্বিক ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাশের হার কম, সেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।