কামরুল ইসলাম প্রতিনিধিঃঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত “ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ২০২৫”-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসন নীতি, বৈশ্বিক শ্রমবাজার এবং বাংলাদেশের বর্তমান অভিবাসন বাস্তবতা নিয়ে জ্ঞানগর্ভ, তথ্যসমৃদ্ধ ও গবেষণা-নির্ভর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে দেশ-বিদেশের গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আন্তর্জাতিক গবেষক এবং এনগ্লোবলের সিইও জনাব রাইসুল ইসলাম মুরাদ। তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া সহ শ্রমবাজারভিত্তিক প্রধান গন্তব্য দেশগুলোতে অভিবাসনের প্রবণতা, দক্ষতা-ঘাটতি, ভিসা নীতি, শিক্ষা-ভিত্তিক অভিবাসন এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত প্রাজ্ঞতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
তার গবেষণায় উঠে আসে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দক্ষ অভিবাসনের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে নার্সিং, আইটি, কেয়ারগিভিং, কৃষি-প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ, মেরিটাইম, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদার করা, প্রশিক্ষণ ও স্কিল ডেভেলপমেন্টকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতি তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তার প্রেজেন্টেশনে বৈশ্বিক অভিবাসন নীতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার EPS ও বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক রিক্রুটমেন্ট মডেল, জাপানের TITP, ইউরোপের ব্লু-কার্ড পলিসি এবং কানাডার এক্সপ্রেস এন্ট্রি ও স্কিল-ভিত্তিক ইমিগ্রেশন পদ্ধতির সাথে বাংলাদেশের নীতির পার্থক্য ও সম্ভাবনা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি তুলে ধরেন, বাংলাদেশ যদি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, জব-ভিত্তিক ভাষা শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন এবং সরকারি নীতিমালায় আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে পারে তবে আগামী ৫-১০ বছরে দেশের অভিবাসন খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
সম্মেলনে উপস্থিত নীতিনির্ধারক, গবেষক, প্রবাসী শ্রম বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জনাব মুরাদের উপস্থাপনাকে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে অভিহিত করেন। ভবিষ্যৎ গবেষণা, ডেটা-ভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং প্রবাসী কল্যাণে তার প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অভিবাসন অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই প্রজ্ঞাপূর্ণ গবেষণা উপস্থাপনা শুধু অভিবাসন নীতি সংস্কারের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে না, বরং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করে প্রবাসী আয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষা এবং দক্ষ কর্মসংস্থানে বিস্তৃত উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।