কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি:ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বগুড়ার কাহালু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এরই মধ্যে গণসংযোগ, শুভেচ্ছা বিনিময়, পোস্টার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। এর মধ্যে কালাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সবুর খাঁন।
কাহালু উপজেলার ২ নম্বর কালাই ইউনিয়নের হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও স্থানীয় জনপদে এখন নির্বাচনী আলোচনা জমে উঠেছে। আগামী নির্বাচনে কারা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত এই ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যেন প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
এমন প্রেক্ষাপটে কালাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করে ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সবুর খাঁন। ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পথচলা
মো. আব্দুস সবুর খাঁন ১৯৬৯ সালের ১৪ নভেম্বর কালাই ইউনিয়নের বড় ভাদাহার গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাহবুবর রহমান খাঁন এবং মাতা আমেনা বিবি। দুই ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি বাবা-মায়ের সপ্তম সন্তান।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৮৬ সালে পাঁচগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৮ সালে নামুজা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে কালাই ইউনিয়নে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন। একপর্যায়ে তিনি ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি কালাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয় এবং তাঁকে কয়েকদিন কারাবরণ করতে হয়।
সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততা
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আব্দুস সবুর খাঁন তিনদিঘী বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় এলাকায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এলাকার উন্নয়ন, জনসাধারণের সমস্যা এবং নির্বাচনী প্রত্যাশা নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানা গেছে।
উন্নয়ন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সবুর খাঁন বলেন, “কালাই ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক কাজের লক্ষ্যে আমি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। দলমত-নির্বিশেষে ইউনিয়নবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করছি। দলীয় সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারেও আমি শতভাগ আশাবাদী।”
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন ও নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কালাই ইউনিয়নের ভোটাররা উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবার প্রত্যাশা নিয়ে আগামী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।