মোঃ আবদুল মোতালেব নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃটানা বর্ষণে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৪ নম্বর কাদরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ভেঙে পড়ায় স্থানীয় জনজীবন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় যাতায়াত যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় বাড়িঘর ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। তারা দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
জনদুর্ভোগে ‘হাজীর পোল’ কালভার্টের কাজ ফেলে রাখার অভিযোগ
উত্তর জয়নগর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও ঝাউতলা হয়ে মগুয়া বাজার এবং মগুয়া হাইস্কুল সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ‘হাজীর পোল’ কালভার্টটি পুনর্নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ শেষ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। জয়নগর, জামালপুর, হিজলী, তাহিরপুর, নিজ সেনবাগ সহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের সেনবাগ বাজারে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ এটি।
স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর ঠিকাদার বড় কালভার্টের পরিবর্তে একটি সরু পাইপ বসিয়ে মাটি দিয়ে কোনো রকম ভরাট করে চলে যান। এতে সাময়িকভাবে চলাচল চালু হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, সরু পাইপের কারণে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে না। ফলে চলমান বর্ষায় আশপাশের বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
জনদুর্ভোগে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে আরেকটি কালভার্ট উত্তর জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মগুয়া গ্রামের দিকে যাওয়ার পাকা সড়কের হামিদ মেম্বার বাড়ির পশ্চিম পাশে অবস্থিত আরেকটি কালভার্টের বড় অংশ ভেঙে গেছে।
ঝাউতলা এলাকার কালভার্ট অচল থাকায় বর্তমানে অধিকাংশ যানবাহন এই বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে ভাঙা কালভার্টটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য- এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ভেঙে রাখা কালভার্টের নির্মাণকাজ সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেও তিনি চেনেন না। অপর ভাঙা কালভার্টটি সংস্কারের জন্যও বর্তমানে তাঁর কাছে কোনো বরাদ্দ নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি
দুটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্টের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
তাই এলাকাবাসী সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন—বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। জনস্বার্থে আর কোনো দুর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।