বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃবগুড়ার আদমদীঘিতে এক অসহায় বৃদ্ধের মালিকানাধীন গাছ জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের নিমাইদীঘি গ্রামে ৮৪ বছর বয়সী মজিবর রহমানের প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ১৯টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জড়িত আবুজার গাফ্ফারী নামের এক নেতা জোরপূর্বক এই গাছগুলো কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা এবং ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। এতে হতাশায় ভুগতে থাকেন অসহায় ওই প্রবীণ ব্যক্তি। পরবর্তীতে গত রবিবার সন্ধ্যায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে নিকটবর্তী থানায় আবুজার গাফ্ফারী সহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের নিমাইদীঘি গ্রামে পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন বৃদ্ধ মজিবর রহমান। গত ১১ মার্চ ধর্মীয় এবাদত পালনে তিনি ১০ দিনের জন্য মসজিদে এত্তেকাফে যান।
তার অনুপস্থিতির সুযোগে জোরপূর্বকভাবে উল্লিখিত জায়গা থেকে ১৯টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে আবুজার গাফ্ফারীর নেতৃত্বে গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে। কাটা গাছগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। স্থানীয়দের ভাষ্যনুসারে প্রায় তিন যুগ ধরে জায়গাটি মজিবর রহমানের দখলে রয়েছে এবং গাছগুলোও তিনিই রোপণ করে বড় করেছেন। এক্ষেত্রে গাছগুলো তিনি বৈধ মালিক।
এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি মজিবর রহমান। পরে তিনি ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একাধিকবার নোটিশ দিলেও বিবাদীরা কেউ উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে ন্যায়বিচার পেতে গত রবিবার সন্ধ্যায় তিনি নিকটবর্তী থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আবুজার গাফ্ফারী বলেন, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। গাছ লাগানো জায়গাটি আমার।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া জানান, অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।##