বগুড়ায় শ্রমিকের নিরাপত্তাসহ ৩১ দফা বাস্তবায়ন চায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন
আগামী (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখা। সম্মেলনে শ্রমিকের নিরাপত্তাসহ ৩১ দফা দাবী ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল মতিন, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজগর আলী, সেক্রেটারী মাস্টার আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম রাজুসহ সভাপতি জহুরুল ইসলাম বাদশা, মহানগর সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান, মোরশেদুল ইসলাম সুইট, আব্দুল হাই সিদ্দিক, জামিল মাহমুদ, শাহাদত হোসেন, আলমগীর হোসেন,তারেকুল ইসলাম, জিয়া আলম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে গোলাম রব্বানী বলেন, আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন ১৮৮৬ সালের (৩ মে) আমেরিকার শিকাগো শহরে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস, ন্যূনতম মজুরি ও চাকুরির নিরাপত্তাসহ তিনটি দাবীতে ডাকা শ্রমিক ধর্মঘটে পুলিশের লাঠি চার্জ ও গুলিতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত ও অসংখ্য শ্রমিক আহত হয়। এরই প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লে অবশেষে দাবী মেনে নেওয়া হয়। এবং সেই থেকে প্রতিবছর এই (১ মে) দিবসটি সারা পৃথিবী ব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হয়। ১৩৯ বছর পার হলেও আজও এই দাবীগুলো যথাযথভাবে পূরণ হয়নি। তাই বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিবছর দিবসটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী (১ মে) বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক সাতমাথায় সকাল ৮ টার সময় শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশ শেষে বর্ণাঢ্য র্যালী, ব্লাড গ্রুপিং, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, অসহায় ও আহত শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, গেঞ্জি বিতরণসহ নানামুখী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে গোলাম রব্বানী ৩১দফা দাবী বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানান। দাবী সমুহ হচ্ছে, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশের শ্রমনীতি ঢেলে সাজাতে হবে। অবিলম্বে সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং খাতভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে মজুরি বৈষম্য কমানোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং মজুরি কাঠামোর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। চাল-ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধসহ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে। বন্ধকৃত সার কারখানা চালু করা এবং সার, বীজ ও কীটনাশকের মূল্য কমাতে হবে। বেতন ভাতাসহ নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় শ্রমিকদেরকে অংশীদারিত্ব দিতে হবে এবং সংসদ নির্বাচনে শ্রমিকদের জন্য ৩০টি সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করতে হবে। গণভোটে প্রতিফলিন জনগণের রায়কে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সকল শ্রমিক সমাজকে (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করার আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলন শেষে গোলাম রব্বানী প্রেসক্লাব এলাকায় শ্রমিকের মাঝে প্রচারপত্র বিতরণ করেন।