বগুড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ
বগুড়ায় এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম ফল বিপর্যয় ঘটেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শূন্য পাসের তালিকায় থাকা নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটিই দাখিল মাদরাসা এবং একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সোমবার (১১ আগস্ট) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বগুড়ায় এই চিত্র সামনে আসে। উদ্বেগজনক এই ফলাফলের কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসা; শিবগঞ্জ উপজেলার বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা, ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদরাসা ও দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা; শেরপুর উপজেলার কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদরাসা ও মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদরাসা; ধুনট উপজেলার হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম কলেজ ও রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদরাসা এবং সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদরাসা।
এ বিষয়ে গাবতলীর কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, তাঁর ৫০ বছরের কর্মজীবনে এটি সবচেয়ে দুর্বল ব্যাচ। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য শিক্ষকরা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করায় কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। তবে কেন এমন ফল হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
শিবগঞ্জের বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা থেকে এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানটির সুপার জুয়েলুর রহমান বলেন, মাদরাসাটি নন-এমপিওভুক্ত। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় অনাগ্রহের কারণে এমন ফল হতে পারে।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার বলেন, নয়টি প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট রয়েছে কি না, কিংবা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য অন্য কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন আছে কি না—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। ফল বিপর্যয়ের মূল কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, একসঙ্গে নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।