হাফিজুর রহমানপ্রতিনিধি (মধুপুর) টাঙ্গাইলঃবৃহস্পতিবার ( ১১ ডিসেম্বর ২০২৫) টাঙ্গাইলের প্রতিটি থানায় উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার মুক্ত-দিবস পালিত হয়। দিনটির স্মরণে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭১ সালের এই দিনে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পন ও পলায়নের মধ্যে দিয়ে মুক্ত হয়েছিল টাঙ্গাইল।
যেভাবে স্বাধীন হয় টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তানদের মধ্যে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আব্দুল মান্নান, টাঙ্গাইল, জামালপুর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি শামছুর রহমান খান শাজাহান ছিলেন অগ্রগণ্য। এক পর্যায়ে টাঙ্গাইলে গঠন করা হয় কাদেরিয়া বাহিনী। এই বাহিনী প্রচণ্ড প্রতিরোধ ও প্রত্যাঘাত শুরু করে পাক সেনাদের উপর। ক্রমান্বয়ে সংগঠিত হতে থাকে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা। শেষ পর্যন্ত এর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ হাজারে।
টাঙ্গাইলে ৮ ডিসেম্বর প্রায় পাঁচ হাজার পাকসেনা এবং সাত হাজার রাজাকার আলবদর অবস্থান করে। খান সেনাদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য যমুনা নদী পথে পাঠানো হয় সাতটি জাহাজভর্তি অস্ত্র ও গোলাবারুদ। কাদেরিয়া বাহিনী গোপনে এই খবর পেয়ে কমান্ডার হাবিবুর রহমানকে দায়িত্ব দেয় জাহাজ ধ্বংস করার জন্য মাইন পোতার কাজে। জীবন বাজি রেখে ভূঞাপুর উপজেলার মাটিকাটা নামক স্থানে ঘটানো হয় জাহাজ বিস্ফোরণ। দু’টি জাহাজে দু’ রাত দু’ দিন ধরে চলতে থাকে অনবরত বিস্ফোরণ। বাকি জাহাজগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় জেলার বিভিন্ন স্থানে। মুক্তি বাহিনীর এ সকল আক্রমণ ও গোলাবারুদ ধ্বংস এবং অস্ত্র উদ্ধারে পাক সেনারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর ৮ তারিখ পর্যন্ত টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় বিশাল কাদেরিয়া বাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পর্যুদস্ত করে পাকসেনাদের। এসব যুদ্ধে তিন শতাধিক দেশপ্রেমিক অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের টাঙ্গাইল অঞ্চলের প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী যোদ্ধাদের নিয়ে সখিপুরের সহানন্দা ও কীর্ত্তনখোলায় গড়ে তোলেন দুর্ভেদ্য দুর্গ। একর পর এক আক্রমণের মুখে পাকসেনারা জেলার অন্যান্য স্থান থেকে এসে যখন টাঙ্গাইল শহরে অবস্থান নেয় তখন উত্তর ও দক্ষিণ টাঙ্গাইল ছিল সম্পূর্ণভাবে মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। কালিহাতী উপজেলার পুংলি নামক স্থানে মিত্র বাহিনীর সঙ্গে পাকসেনাদের সংর্ঘষ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণ ভয়ে পাকসেনারা সারারাত ধরে টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী চার দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে পাকসেনাদের টাঙ্গাইল থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয় কাদেরিয়া বাহিনী। ১০ ডিসেম্বর রাতে টাঙ্গাইল প্রবেশ করেন কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক ভোলা। ১১ ডিসেম্বর সকালে কমান্ডার বায়োজিদ ও খন্দকার আনোয়ার টাঙ্গাইল পৌঁছেন। আসেন বিগ্রেডিয়ার ফজলুর রহমান। কাদের সিদ্দিকীর কাছে সার্কিট হাউজে অবস্থানরত পাক সেনাদের আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয় টাঙ্গাইল।